ছাব্বিশের এপ্রিল
রাত ১ টা। ২৬ এর এপ্রিল মাসে জীবনের সারসংক্ষেপ।
একটা কোডিং অ্যাসেসমেন্টের মাঝে কাজ বাদ দিয়ে লিখতে বসলাম। কাজ সবসময় করি, কিন্তু লিখার মুড সবসময় থাকেনা। লাইফের একটা গুরুতর সিচুয়েশনের মধ্যে আছি, সো লাইফও একটু ডকুমেন্ট করা দরকার। ওয়েবসাইটটারও টুকিটাকি আপডেট লাগবে। সব ভেবে আজকে কাজ থেকে নিজেকে ছুটি দিলাম।
আজকে ছিল ১৪ এপ্রিল, পহেলা বৈশাখ। ভার্সিটি বন্ধ, তাই ঘুম থেকে উঠেছি বিকালে। তারপর থেকে ইন্টারভিউ, হাবিজাবি কাজ করতে করতে দিন শেষ। যদিও কোনটাই আমার কোর্স অ্যাসাইনমেন্টের মতো হাত-পা বেঁধে জোর করে করাচ্ছে এমন কাজ না, কিন্তু আবার নিতান্তই শখের বসে করছি এমনও না। স্ট্রাইপ থেকে কিছু টাকা আসতেছে গতমাস থেকে। স্ট্রাইপ বলে টাকা আমার ব্যাংকে, ব্যাংক বলে তারা কিছুই জানে না। Paypal নাই, ইন্টারন্যাশনাল ট্রানজ্যাকশনের ভালো কোন ওয়ে নাই, সব দিক দিয়ে বাংলাদেশ প্যারা দিতে বাকি রাখতেছে না। শুধু একটাই সুবিধা, ডলার রেট ভালো।
ভালো প্রেশার গিয়েছে গত কয়েকদিন। ঈদের পর মিড, সব এক দুইদিনে প্রিপারেশন নিতে হয়েছে। তারপর আবার ঈদের আগের জমা সব এসাইনমেন্ট। সব শেষ করে ফাইনালি আজকে একদিন ফ্রি। কালকে ভার্সিটিতে শা-পা ডে। তাই সাথী একটু পরপর বিভিন্ন লিপস্টিক ট্রাই করে কল দিয়ে আমার রিভিউ নিচ্ছে। আমি কাজের ফাঁকে ফাঁকে লিপস্টিকের রিভিউ দিচ্ছি। কালকেও কোন ক্লাস নাই, তাই বনলতা এক্সপ্রেস দেখার সিন্ধান্ত নিয়েছি। এতদিন মিড, অ্যাসাইনমেন্ট, ভাইভা শেষ করে ফাইনালি একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস নিবো, এরমধ্যেও কাজ। কাজ না করতে চাইলে সব ডিজিটাল অ্যাসেট সেল করা লাগবে এবার এমন অবস্থা।
ব্র্যাকে এটা আমার ১১ তম সেমিস্টার। হোপফুলি আর এক সেমিস্টারের মধ্যে গ্র্যাজুয়েশন শেষ হবে, এই সামারে। ফাঁকিবাজি করতে করতে সিজিও কমিয়ে ফেলেছি। এইবছর ফুটবল ওয়ার্ডকাপ। গত ওয়ার্ডকাপে ছিলাম ফার্স্ট সেমিস্টারে, ভাবতাম নেক্সট ওয়ার্ডকাপে ফাইনাল ইয়ারে থাকবো, সেই সময়ও এখন চলে এসেছে। এই বুড়া বয়সে এসেও পড়াশোনা আর করতে ভালো লাগে না। তারপরেও জোর করে আমাকে দিয়ে কম্পাইলার ডিজাইন করায় ভার্সিটি। মনের ইচ্ছার বিরুদ্ধে করি সব এসাইনমেন্ট। আবার এই বুড়া বয়সে এসে ভেরিলগ করা লাগতেছে। কোনরকমে ব্র্যাক থেকে বের হতে পারলেই বাঁচি এমন অবস্থা। লাইফের অবস্থা কাবেরীর মতো, অর্ঘ্য দেব যেমন গায়,
“কাবেরী চলো এবার শুয়ে পড়ি নিভিয়ে ঘরের বাতি।”
আমার কথাও একই, গ্যাঞ্জাম তো অনেক করলাম, এইবার তাড়াতাড়ি ঘরের বাতি নিভিয়ে শুয়ে পড়ি। এত প্রেশার নিয়ে কি লাভ?
অনেকদিন কিছু লিখি না। তাই আজকে যা মনে আসে লিখলাম। বাংলা শব্দ খুঁজে পেতে কষ্ট হচ্ছে, অনেক চেষ্টা করেও লেখাটা জাহানারা ইমামের মতো করা থেকে বাদ দিতে পারলাম না। ব্র্যাক যেহেতু শেষের দিকে, একটা বিরক্তিকর বড় পোস্ট লিখবো আমার ব্র্যাকের ইতিকথা নিয়ে। আজকে আর এর বেশি কিছু লিখলাম না। যেদিন মাথায় অনেক শব্দ থাকবে, সেদিন আবার লিখতে বসবো।