কী আছে জীবনে?

টাকা-পয়সা, গাড়ি-বাড়ি আর সব রিসোর্স থাকার পরও যদি জীবনের ছোট ছোট মুহূর্তগুলা ট্রুলি এনজয় করার সময় না থাকে, তাইলে আসলে কী থাকে?

শুয়ে শুয়ে সাদমান সাদিক ভাইয়ের একটা মনোলগ শুনতেছিলাম। উনি হুট করে একটা কথা বললেন, জিনিসটা আমাকে বেশ কিছুক্ষণ ভাবতে বাধ্য করল।

সময়।

একটা মানুষের জীবনে টাকা-পয়সা, গাড়ি-বাড়ি সব আছে, কিন্তু সময় নাই—তাইলে আর তার জীবনে কী আছে?

নরমাল সময় হলে আমি জীবনে মনোলগটা শুনতেও যেতাম না। কিন্তু আজকে একটু আলাদা দিন, আমার হাতে সময় আছে, তাই শুনতেছি। তো শুনতে শুনতে যে জিনিসটা আমি নোটিস করলাম, সেইটা হচ্ছে—আমি গত দুই বছর যাবৎ তেমন কোনো ভিডিও বানাই না, প্রোডাক্টিভ কাজ করি না, এমনকি লেখালেখিও করি না। এমন না যে আমি জিনিসগুলা এনজয় করি না। এগুলা করতে আমার খুব ভালো লাগে এবং আমি করতে চাইও, কিন্তু করতে পারি না, কারণ আমার হাতে সময় নাই। অথচ আমার হাতে এখন সব রিসোর্স আছে—ভালো ক্যামেরা, ভালো পিসি, সবই আছে।

তার মানে কি আমার জীবন বোরিং? এমনও না। আমি রেস্টুরেন্টে যাই, ঘুরি-ফিরি, আরও অনেক কিছুই করি। কিন্তু সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং জিনিস হচ্ছে, এগুলার কোনোটাই আমি ট্রুলি এনজয় করি না। হ্যাঁ, জিনিসগুলা আমাকে ডোপামিন দেয়, আমার ভালো লাগে, কিন্তু জিনিসগুলা আমাকে ইন্টারনাল স্যাটিসফেকশন দেয় না।

তো আমাকে ইন্টারনাল স্যাটিসফেকশন দেয় কী?

সেইটা বলার আগে আরও কিছু জিনিস ক্লিয়ার করা দরকার। ফার্স্ট অব অল, আমার নরমাল মানুষের মতো লাফালাফি করতে ভালো লাগে না। আমার লিখতে ভালো লাগে। ভোরবেলার রোদ দেখলে আমার অনেক বেশি ভালো লাগে। কোনো এক নদীর পাড়ে বসে টং দোকানে চা খেতে ভালো লাগে। এগুলা আসলে কোনো সিগনিফিক্যান্ট কাজ না, কিন্তু এগুলা করতেই আমার ভালো লাগে।

কিন্তু সবচেয়ে ঝামেলার কথা হচ্ছে, গত দুই বছরের মধ্যে আমি এগুলাও করেছি, কিন্তু এইসবও ট্রুলি এনজয় করতে পারি নাই। তাইলে সমস্যাটা কই?

তো সাদমান সাদিক ভাই মনোলগে খুবই ইম্পর্ট্যান্ট একটা কথা বললেন, যেইটা আমার অনেক দিন মনে থাকবে। সেইটা হচ্ছে—দুনিয়া নিয়ে ইনফ্যাচুয়েশন। অ্যাটাচমেন্ট।

আমি চা খাই, ভোরের রোদ দেখি, কিন্তু আসলে আমি জিনিসগুলা নোটিসই করতেছি না। হয়তো মনে মনে অন্য কিছু একটা ভাবতেছি। কোনোভাবেই আমি প্রেজেন্ট টাইমটা এনজয় করতে পারতেছি না। শারীরিকভাবে আমি সেখানে আছি, কিন্তু আমার মনটা আসলে অন্য কোথাও পড়ে আছে।

তো গত দুই বছরে আমি কী কী করেছি?

সবচেয়ে ইম্পর্ট্যান্ট কাজ যেইটা করেছি, সেইটা হচ্ছে আমার জব। যেইটা আমাকে অনেকগুলা ডোপামিন দিয়েছে। যেমন, ইচ্ছা হইল বাসে যাব না—প্লেনের টিকিট কেটে ফেললাম। অথবা এক লাখ টাকা বাজেট করলাম ল্যাপটপের জন্য, তারপর হুট করে একটা পছন্দ করে দুই লাখ টাকা দিয়ে কিনে ফেললাম।

তো এগুলা করতে করতে এমন একটা পর্যায়ে পৌঁছে গেছি যে আমি দুনিয়া নিয়ে অবসেসড হয়ে গেছি। যেকোনো কিছু পাওয়ার পর কিছুক্ষণ ভালো লাগে, তারপর আবার নতুন কিছু একটা দরকার হয়। মনে হয়, ওই জিনিসটা পাইলেই হয়তো আরও ভালো লাগবে।

তো সাদমান ভাইয়ের আরেকটা কথা আমার ভালো লাগল, কারণ আমিও আগে এমনভাবে চিন্তা করতাম। মানুষের এত ফ্যাসিনেশন থাকে—বিদেশে ঘুরবে, এইটা করবে, ওইটা করবে। কিন্তু আসলে কী? বিদেশেও সেই একই মানুষজন, হয়তো একটু ডিফারেন্ট ফ্লেভারের খাবারদাবার, একটু বেশি রোদ অথবা ঠান্ডা—সেই একই সূর্য, এভরিথিং।

যাদের এগুলা নিয়ে অনেক বেশি ফ্যান্টাসি থাকে, তারাই বিদেশে গিয়ে শেষে ডিপ্রেসড হয়ে পড়ে। কারণ বাস্তবতা কখনোই মনের ভেতর বানানো সেই ফ্যান্টাসির সমান হয় না। তো আমার ক্ষেত্রেও জিনিসটা অনেকটা তা-ই হয়েছে। দুনিয়া নিয়ে অবসেশনের জন্য আমি নরমাল জিনিসের কাছ থেকেই ওভার এক্সপেক্ট করে ফেলেছি।

তো সবকিছুর পর আমি ফাইনালি যে জিনিসটা বুঝলাম, সেইটা হচ্ছে—এত ব্যস্ততা আর এত কিছুর মাঝে আমি আসলে লাইফের সবচেয়ে ক্রুশাল এলিমেন্টটাই হারায় ফেলছি।

টেকিং আ পজ।

একটু থামা। একটু হাবিজাবি চিন্তা বাদ দিয়ে চারদিকে তাকায় দেখা। এই মুহূর্তে আমি কোথায় আছি, কী করতেছি—সেইটা আসলে নোটিস করা।

খুব বেশি হলে আমি পৃথিবীতে ২১০০ সাল পর্যন্ত বাঁচব। যদি ১০০ বছরও বাঁচি, কোনোভাবেই আমি এই সময়টা এক্সটেন্ড করতে পারব না। তাই খামাখা হাবিজাবি চিন্তা বাদ দিয়ে একটু লিখতে বসলাম। সত্যি বলতে, আমার বেশ ভালো লাগতেছে। দিস ইজ দ্য অনলি থিং আই অ্যাম ট্রুলি এনজয়িং এত বছর পর।

আমি গেম খেলি, হাবিজাবি খাই—এগুলা আমাকে ডোপামিন দেয়, আমার ভালো লাগে। কিন্তু আল্টিমেটলি এগুলা আমার লাইফের জন্য ভালো না, সো এগুলা আমাকে ট্রু স্যাটিসফেকশন দেয় না।

যেমন, আজকে টগিতে গিয়ে একটা রাইডে উঠতে পারলাম না, ওজন ৮০ ক্রস করার জন্য। অথচ আমার ওজন কিছুদিন আগেও ছিল ৬৮। এর থেকে বাজে ফিলিং আর নাই।

তো এইটাই হচ্ছে কথা। আমি একটা স্টেপে যাই, তারপর ঠাস করে উপরে তাকাই আর ভাবি, কীভাবে ওখানে পৌঁছানো যায়। ওখানে পৌঁছানোর পর আবার তার চেয়েও উপরে তাকাই। কিন্তু এইটা আসলে জীবন না।

জীবনে আসলে গ্রেটফুল থাকা মেইন আর্ট।

আমি সারা জীবন ফ্যান্টাসাইজ করলাম, মালদ্বীপের সবচেয়ে দামি ওভারওয়াটার ভিলায় থাকব। কিন্তু আমি জানি, ওখানে গেলেও আমি হ্যাপি হব না। কারণ জায়গাটা বদলাবে, কিন্তু আমার দেখার পারস্পেক্টিভ তো একই থাকবে।

আর এইদিকে কোনো টং দোকানের চায়ে চুমুক দিতে দিতেও আমি হ্যাপি থাকতে পারতাম—

ইফ আই লুকড অ্যাট লাইফ ফ্রম আ ডিফারেন্ট পারস্পেক্টিভ।

All writing